দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দৈনন্দিন জীবন ও কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে লেখালেখি, তথ্য খোঁজা কিংবা নানা কাজ সহজ করতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিও রয়েছে। তাই কোনো এআই টুল বা চ্যাটবট ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করা
এআই প্ল্যাটফর্মে প্রম্পট বা কমান্ড হিসেবে দেওয়া তথ্য অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেবার উন্নয়নে ব্যবহার করা হতে পারে। তাই ব্যাংক হিসাব নম্বর, পিন, পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর কিংবা অফিসের গোপনীয় ও সংবেদনশীল নথি এআই টুলে দেওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য শেয়ারের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এআইয়ের তথ্য যাচাই করা
এআই অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল, বিভ্রান্তিকর বা পুরোনো তথ্য দিতে পারে। প্রযুক্তির ভাষায় এ ধরনের ভুল তথ্য দেওয়াকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। বিশেষ করে চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। এসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
প্রাইভেসি ও ডাটা নীতি জেনে নেওয়া
নতুন কোনো এআই টুল বা অ্যাপ ব্যবহারের আগে এর নিয়মাবলি ও গোপনীয়তা নীতি পড়ে নেওয়া উচিত। অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং আচরণ, অবস্থান বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় দ্বি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ারের অনুমতি বন্ধ রাখা নিরাপদ।
এআই-নির্মিত ভুয়া কনটেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকা
জেনারেটিভ এআইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও এবং মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করা সম্ভব। সাইবার অপরাধীরা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, পরিচিতজনের কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণা কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধ ঘটাতে পারে। তাই সন্দেহজনক কোনো ছবি, ভিডিও, অডিও বা তথ্য দেখলে যাচাই না করে তা বিশ্বাস বা প্রচার করা উচিত নয়।
নিজের চিন্তাশক্তি ও দক্ষতা ধরে রাখা
এআইকে কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উপকারী হলেও এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়া নিজের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাড়ির কাজ বা লেখালেখির পুরো দায়িত্ব এআইয়ের ওপর ছেড়ে দিলে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ কমে যেতে পারে। তাই এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিজের চিন্তা, যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
এমএম/